আইইএর পূর্বাভাস

দাম বাড়ায় চলতি বছর কমবে এলএনজির বৈশ্বিক চাহিদা

২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

বাড়তি দামের কারণে বিশ্বের বড় বড় শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো জ্বালানির ব্যবহার কমাতে বাধ্য হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।

প্যারিসভিত্তিক জ্বালানি সংস্থাটি সম্প্রতি তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এলএনজির বৈশ্বিক চাহিদা প্রায় দুই হাজার কোটি ঘনমিটার কমতে পারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ কমে গেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোয় বিঘ্ন ঘটছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আইইএর ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি দশকের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্ববাজারে গ্যাসের বার্ষিক চাহিদা কমতে যাচ্ছে। এর আগে ২০২০ ও ২০২২ সালে করোনা মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক গ্যাসের চাহিদা একইভাবে কমেছিল। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন থমকে গেছে।

চলতি বছরের প্রথমার্ধেই (জানুয়ারি-জুন) বিশ্বের বড় বড় এলএনজি ব্যবহারকারী দেশ ও অঞ্চলে এ সরবরাহ সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুনের মধ্যে এশিয়ায় এলএনজির সামগ্রিক চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। সংস্থাটি ব্যাখ্যা করেছে, গ্যাসের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার অনেক উন্নয়নশীল দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে তুলনামূলক সস্তা বিকল্প জ্বালানি, বিশেষ করে কয়লার দিকে ঝুঁকেছে।

বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক গ্যাসের আঞ্চলিক সূচকগুলো ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের পর এবারই দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সর্বোচ্চ গড় মূল্যে পৌঁছেছে। ইউরোপের প্রধান বাজার আদর্শ বা বেঞ্চমার্ক টিটিএফে গ্যাসের দাম গত বছরের চেয়ে ৩২ শতাংশ বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গড়ে প্রায় ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে এশিয়ার বাজারে স্পট এলএনজির দাম আরো বেশি বেড়েছে। এশিয়ায় এ জ্বালানির দাম ৪৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউতে গড়ে সাড়ে ১৭ ডলারে ঠেকেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথের এ সংকট ওই অঞ্চলের জ্বালানি রফতানিকারকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো বড় বড় উৎপাদক দেশ থেকে এলএনজি রফতানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত বছরের মার্চ-জুনের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশ দুটির সম্মিলিত গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।

যদিও বিশ্বের অন্য অঞ্চলের গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়ানোয় এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক মোট সরবরাহ কোনোমতে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বছরের বাকি সময়ের জন্য বাজারের এ পূর্বাভাস এখনো বেশ অনিশ্চিত। আইইএ সতর্ক করে জানিয়েছে, অক্টোবর শুরু হওয়ার আগে যদি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুরোপুরি খুলে দেয়া সম্ভব না হয়, তবে ২০১২ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বব্যাপী এলএনজির বার্ষিক সরবরাহ সামগ্রিকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কাজনক রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

আরও